জ্বালানি ব্যয়ের চাপ

১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন চায় এয়ারএশিয়া

প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা টনি ফার্নান্দেস জানিয়েছেন, ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে ১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের (জেট ফুয়েল) দাম বাড়ছে হুহু করে। এ কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে মালয়েশিয়ার বাজেট এয়ারলাইনস এয়ারএশিয়া। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা টনি ফার্নান্দেস জানিয়েছেন, ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে ১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন পাওয়ার আশা করছেন তারা। এ অর্থ মূলত পুরনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন এবং পাওনাদারদের কিছু অর্থ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

অনলাইনে এক ব্রিফিংয়ে গতকাল ফার্নান্দেস বলেন, ‘‌অর্থায়নের জন্য কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোন ব্যাংক সবচেয়ে ভালো শর্ত দেবে, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

এর আগে এয়ারএশিয়া জানায়, আন্তর্জাতিক ঋণবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে তারা। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৩০০ কোটি ডলার নতুন মূলধন প্রয়োজন হতে পারে। ফার্নান্দেস এ তথ্য নাকচ করে বলেছেন, ‘আমাদের ১০০ কোটি ডলার প্রয়োজন, ৩০০ কোটি ডলার নয়।’

এদিকে এয়ারএশিয়ার শেয়ারের দামে বড় পতন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২১ শতাংশ কমে যায়। গতকাল সকালে আরো ৪ শতাংশ কমে শেয়ারপ্রতি দাম দাঁড়ায় দশমিক ৪৮ রিঙ্গিতে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের হাতে ১০০ কোটি রিঙ্গিতের বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। তারা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা চায়নি। প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ বাজারে এয়ারএশিয়ার অংশ ছিল ৫৯ শতাংশ।

উচ্চ জ্বালানি খরচ প্রতিষ্ঠানটির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এয়ারএশিয়ার নিট লোকসান হয়েছে ৫২ কোটি ৭০ লাখ রিঙ্গিত। ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের মোট দায় ছিল ৪ হাজার ৩০০ কোটি রিঙ্গিত। বিপরীতে সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৪০ কোটি রিঙ্গিত।

ফার্নান্দেস জানান, এয়ারএশিয়ার মূল সমস্যা যাত্রী চাহিদার পতন নয়, বরং জ্বালানি খরচের আকস্মিক বৃদ্ধি। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভাড়া বাড়ানো এবং খরচ কমানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।

আগস্টে এয়ারএশিয়ার আসন পূরণের হার ছিল ৮২ শতাংশ। তবে এক বছর আগের তুলনায় উড্ডয়ন সক্ষমতা কমেছে ২৩ শতাংশ। আগস্ট পর্যন্ত ৪ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পুরো বছরে ছয় কোটির বেশি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ফার্নান্দেস জানান, বর্তমানে এয়ারএশিয়া আসিয়ান ও এশিয়ার বাজারে বেশি গুরুত্ব দেবে। বর্তমান জ্বালানি দামের পরিস্থিতিতে এসব বাজারেই তারা বেশি লাভজনক বলে জানান তিনি।

আরও